বাংলাদেশে সাম্প্রতিক অস্থিরতার মধ্যে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা

বাংলাদেশে সাম্প্রতিক অস্থিরতার মধ্যে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা এবং দুস্থ ব্যক্তির হত্যার ঘটনাগুলো অত্যন্ত উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি করেছে। গত ডিসেম্বর ২০২৫-এর মাঝামাঝি সময় থেকে চলা এই সহিংসতার মূল ঘটনাবলি নিচে তুলে ধরা হলো:

১. দীপু চন্দ্র দাস হত্যা (ময়মনসিংহ)

  • ঘটনা: ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে ময়মনসিংহের ভালুকা এলাকায় ২৫ বছর বয়সী পোশাক শ্রমিক দীপু চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।

  • বিবরণ: উত্তেজিত জনতা তাকে পিটিয়ে হত্যার পর একটি গাছে ঝুলিয়ে দেয় এবং পরে তার মৃতদেহ পুড়িয়ে দেওয়া হয়। অভিযোগ ছিল যে তিনি ধর্মীয় অবমাননা করেছেন, যদিও প্রাথমিক তদন্তে এর কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

  • বর্তমান অবস্থা: এই ঘটনায় প্রায় ১২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়েছে এবং দীপুর পরিবারের দায়িত্ব নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

২. অমৃত মণ্ডল ওরফে সম্রাট হত্যা (রাজবাড়ী)

  • ঘটনা: দীপু দাসের ঘটনার কয়েকদিন পরেই ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে রাজবাড়ীর পাংশা এলাকায় অমৃত মণ্ডল (২৯) নামের আরেক হিন্দু যুবককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।

  • সরকারের বক্তব্য: সরকার দাবি করেছে যে এই ঘটনাটি সাম্প্রদায়িক ছিল না, বরং চাঁদাবাজি এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ফলে সৃষ্ট গণপিটুনি ছিল। তবে স্থানীয় পর্যায় এবং আন্তর্জাতিক মহলে এটি নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

৩. প্রেক্ষাপট: ইনকিলাব মঞ্চ নেতার মৃত্যু

এই সহিংসতা মূলত শুরু হয়েছিল শিক্ষার্থী নেতা ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি-র মৃত্যুর পর। তিনি ১২ ডিসেম্বর ঢাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে আহত হন এবং ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তার মৃত্যুর খবরে সারা দেশে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

৪. ভারতের প্রতিক্রিয়া ও প্রতিবাদ

  • কূটনৈতিক বার্তা: ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (MEA) এই হত্যাকাণ্ডগুলোকে “ভয়াবহ” (horrendous) বলে বর্ণনা করেছে এবং বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

  • প্রতিবাদ: এই ঘটনার প্রতিবাদে পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা, হাওড়া এবং বিভিন্ন সীমান্তে (যেমন বনগাঁ, মালদহ) ব্যাপক বিক্ষোভ প্রদর্শিত হয়েছে। উত্তরপ্রদেশ, জম্মু ও ত্রিপুরাতেও প্রতিবাদের খবর পাওয়া গেছে।


বর্তমান পরিস্থিতি: বাংলাদেশ সরকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে এবং বিজিবি ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে অনেক জায়গায় পরিস্থিতি এখনও থমথমে।

আপনি কি এই বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট এলাকার খবর বা ভারত সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চান?

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *