আরাবল্লী বাঁচাও

আরাবল্লী পর্বতমালা (Aravalli Hills) বর্তমানে একটি গুরুতর পরিবেশগত সংকটের সম্মুখীন এবং এটি নিয়ে দেশজুড়ে “Save Aravalli” বা “আরাবল্লী বাঁচাও” আন্দোলন তীব্রতর হয়েছে। নিচে এই আন্দোলনের বর্তমান অবস্থা এবং সাম্প্রতিক আইনি সিদ্ধান্তের বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হলো:

১. সাম্প্রতিক সুপ্রিম কোর্টের গুরুত্বপূর্ণ স্থগিতাদেশ (২৯ ডিসেম্বর, ২০২৫)

গতকাল অর্থাৎ ২৯ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট তার নিজের দেওয়া ২০ নভেম্বরের একটি রায়ের ওপর স্থগিতাদেশ (Stay Order) জারি করেছে।

  • বিতর্কিত সংজ্ঞা: ২০ নভেম্বরের রায়ে আদালত বলেছিল যে, ভূ-পৃষ্ঠ থেকে কেবল ১০০ মিটারের বেশি উচ্চতার পাহাড়গুলোকেই ‘আরাবল্লী’ হিসেবে গণ্য করা হবে। পরিবেশবিদদের মতে, এতে আরাবল্লীর প্রায় ৯০% অংশ সুরক্ষাহীন হয়ে পড়ত এবং খননকার্যের জন্য উন্মুক্ত হয়ে যেত।

  • বর্তমান নির্দেশ: প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, একটি উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন বিশেষজ্ঞ কমিটির (Expert Committee) রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত আরাবল্লীতে কোনো প্রকার খননকার্য (Mining) চালানো যাবে না। পরবর্তী শুনানি ২১ জানুয়ারি, ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত হবে।

২. কেন এই আন্দোলন (Save Aravalli Campaign)?

আরাবল্লী বাঁচানোর দাবিতে সাধারণ মানুষ, পরিবেশকর্মী এবং রাজনৈতিক দলগুলো সরব হয়েছে। এর প্রধান কারণগুলো হলো:

  • মরুকরণ রোধ: আরাবল্লী পর্বতমালা রাজস্থানের থর মরুভূমির ধুলিঝড় এবং বালিকে দিল্লি, হরিয়ানা ও উত্তর ভারতে প্রবেশ করতে বাধা দেয়। এই পাহাড় ধ্বংস হলে উত্তর ভারত মরুভূমিতে পরিণত হতে পারে।

  • জলের উৎস: এই পর্বতমালা ভূগর্ভস্থ জলস্তরের ভারসাম্য বজায় রাখে এবং চম্বল, সবরমতী ও লুনির মতো নদীর উৎস হিসেবে কাজ করে।

  • ফুসফুস রক্ষা: আরাবল্লীকে উত্তর ভারতের ‘ফুসফুস’ বলা হয়। এটি দিল্লির ভয়াবহ দূষণ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

  • অবৈধ খনন: রিয়েল এস্টেট এবং খনিজ উত্তোলনের জন্য গত কয়েক দশকে প্রচুর পাহাড় কেটে ফেলা হয়েছে।

৩. সরকারের পদক্ষেপ

  • জিরো টলারেন্স নীতি: রাজস্থান সরকার ২৯ ডিসেম্বর, ২০২৫ থেকে ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬ পর্যন্ত ২০টি জেলায় অবৈধ খননের বিরুদ্ধে বড় আকারের অভিযান শুরু করার নির্দেশ দিয়েছে।

  • গ্রিন ওয়াল প্রকল্প (Green Wall Project): কেন্দ্রীয় সরকার এই পর্বতমালাকে ঘিরে একটি বিশাল বনভূমি তৈরির পরিকল্পনা নিয়েছে যাতে মরুকরণ ঠেকানো যায়।

৪. আরাবল্লীর বর্তমান ভৌগোলিক সংকট

ভূতাত্ত্বিকভাবে হিমালয়ের থেকেও প্রাচীন (প্রায় ৩০০ কোটি বছর) এই পর্বতমালাটি গুজরাট, রাজস্থান, হরিয়ানা হয়ে দিল্লি পর্যন্ত বিস্তৃত। বর্তমানে অনিয়ন্ত্রিত নগরায়ণ এবং খননের ফলে অনেক জায়গায় পাহাড়গুলো সম্পূর্ণ সমতল হয়ে গিয়েছে।


মূল বার্তা: সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক হস্তক্ষেপে আপাতত খনন কাজ বন্ধ হওয়ায় পরিবেশপ্রেমীরা কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন, তবে স্থায়ী সমাধানের জন্য ২১ জানুয়ারির রায়ের দিকে সবাই তাকিয়ে আছে।

আপনি কি এই বিষয়ে আরও কোনো তথ্য বা নির্দিষ্ট কোনো এলাকার (যেমন দিল্লি বা হরিয়ানা অঞ্চল) খবর জানতে চান?

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *